দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা মহানগরীতে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
তিনি বলেন, অপরাধ দমনে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ‘ব্লক রেইড’ পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চেকপোস্ট বসানো, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।
মোহাম্মদ সরওয়ার বলেন, কাঁচাবাজার, বড় মার্কেট, টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল ও ঝটিকা অভিযান চলছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ, ডিবি ও সিটিটিসি যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আদালতে উপস্থাপনের জন্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে। শনিবার ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে ছোটখাটো বিক্রেতাদের পাশাপাশি বড় চালান ও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ অন্যান্য মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
নগরীর নিরাপত্তা জোরদারে বসিলা ও কারওয়ান বাজার এলাকায় দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি স্থানে নতুন ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে।
সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অপরাধসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে দেওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচ্য নয়; তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।’
তদবির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘অপরাধীকে ছাড়াতে কেউ তদবির করলে তাকে ওই চক্রের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএমপির অবস্থান জিরো টলারেন্স।’
চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজ শুধু চাঁদাবাজ। তার অন্য কোনো পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য নয়।’
তিনি আরও জানান, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের বাইরে গ্রেপ্তার হওয়া ৯৪ জনের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং নিয়মিত এ তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।
এমএস/